অন্তরা ঘোষ কর্মকারের গুচ্ছ লেখা -২
করোনার জেরে ----------------- করোনার জেরে আপন হয়েছে পর- করোনার জেরে একাকীত্ব হল আপন, করোনার জেরে প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা , উবে গেছে সব, শোক করেছে আলিঙ্গন! করোনার জেরে সব গেছে উড়ে- মানুষে মানুষে জাতিভেদ দূরে, রোগে শোকে তাপে পুড়ে- একের পর এক হসপিটালে ঘুরে- করোনার জেরে প্রেম অচছ্যুত, করোনার জেরে ভক্তি আপ্লুত! চলে গেছে সকল মানব প্রীতি- এসে […]
করোনার জেরে ----------------- করোনার জেরে আপন হয়েছে পর- করোনার জেরে একাকীত্ব হল আপন, করোনার জেরে প্রেম-প্রীতি-ভালোবাসা , উবে গেছে সব, শোক করেছে আলিঙ্গন! করোনার জেরে সব গেছে উড়ে- মানুষে মানুষে জাতিভেদ দূরে, রোগে শোকে তাপে পুড়ে- একের পর এক হসপিটালে ঘুরে- করোনার জেরে প্রেম অচছ্যুত, করোনার জেরে ভক্তি আপ্লুত! চলে গেছে সকল মানব প্রীতি- এসে গেছে শুধু মানুষে ভীতি- ভুলে গেছে সবাই বিবেক নীতি- সম্পর্কের টেনেছে ইতি । করোনার জেরে স্বার্থের হয়েছে জয়- এখনও রোগীকেই ঘৃণা করা হয়, ডাক্তার, পুলিশ, নার্স এদের সাথে সহযোগিতা কোন মতে ই নয়! করোনার জেরে জিতে গেছে স্বার্থ- করোনার জেরে হেরে গেছে অর্থ- করোনার জেরে এসে গেছে কালোবাজারী- করোনার জেরে হুজুগে মেতেছে গা-জোয়ারী ।। মন ডুবুরি ----------------- জল ডুবুরি যেমন করে মুক্তো-মাণিক তোলে- মন ডুবুরি তেমন করেই প্রেমের অতলে, ডুব দিয়ে সে মন খুঁজে নেয়- প্রেমের গহীন মনন খাতায়- সাঁতার না জানলে পরে জলে হাবুডুবু খেতে হবে নরখাদক কিংবা বিপদ সঙ্কুল, প্রাণী তোমায় করবে নির্মূল- প্রেমে ও যদি নকল মোতি কিংবা ভ্রান্ত মাণিক পাও, জীবন তোমার হবে ছারখার, চাও বা না চাও- পোড়া চামচ জলের মধ্যে বেশি চকচক করে- অথচ চকচকে চামচ কে ম্লান লাগে জলের পরে!! মুক্তো ভেবে শুক্তি খানি দেখি যখন খুলে- হাতের উপর কলাগাছ হয়েছে আঙুল ফুলে!!!! বিজিত বীর যোদ্ধা ----------------- জীবনে অনেক কিছু করতে হবে, লড়তে হবে, ছাড়তে হবে ভূমি- জীবন যুদ্ধে জয়ী হলে সবার হৃদয়ে তুমি! যুদ্ধে যারা হেরে গেল, হল না বিজয়ী- কেউ ই তাদের রাখবে না মনে নাম নেবে না কেউ ই । অথচ তারা ভুলেছে নিজের কথা- ভুলেছে নিজ চাহিদা- শোনেনি কেউ জীবন ব্যথা- নাম করে নি কদা! যাদের জন্য তৈরি হল বিজয় সোপান খানি- একবার ও কি চোখে তোমার আসবে না কো পানি? তাদের পদচিহ্ন রেখা একটু পায়ের ধুলো, পেতাম যদি একবার ও কেউ ধন্য মানুষ গুলো! তাদের সহায়তার তরে সফল হল কাজ, হেরে গিয়ে ও জিতে গেলেন অমর হলেন আজ ।। ফুল কি শুধু রূপেই সুন্দর? ঐ তো ডাকে মৌমাছি আর ভ্রমর! যাতে বাড়ে ভবিষ্যত গাছের কদর! আর সুগন্ধে ভরিয়ে দেয় আমাদের অন্তর । ধূপ নিজেকে জ্বালিয়ে, নিজেকে শেষ করে, সুগন্ধ বিলিয়ে যায় মনপ্রাণ ভরে- মোমবাতি নিজেকে পুড়িয়ে, দেয় আমাদের আলো- নিজেকে গলিয়ে সে ঘোচায় সকল কালো! শামুক কে মেরে ফেলে, তার খোলস দিয়ে- 'শঙ্খ ' বাজে ঘরে ঘরে সন্ধ্যা বেলায় নিয়ে- ঝিনুক মরে তার ভিতরে লুকোনো ঐ মুক্ত, লক্ষ টাকার দামী রত্ন ভিতরে থাকে গুপ্ত- লাক্ষা-গুটির ভিতর গুটি পোকাকে ধরে- গরম জলে ফেলে মারি রেশমী সুতোর তরে! রঙ বেরঙের ফল গুলো সব পাকা এবং কাঁচা ও- উদরতুষ্টি ছাড়া ও যে বীজ নতুন গাছ বাঁচাও । আমরা কেবল মহান সৃষ্টি, শ্রেষ্ঠ নাকি জীব- পরোপকারে পিছু হটে যাই, হৃদয়ে নাকি শিব! কি করলাম এ জীবনে?কি ই বা দিলাম কাকে? নিলাম শুধু ই দু'হাত ভরে, জীবন শূন্য আঁকে ।। দৈনন্দিন জীবন মাঝে, সারা সকাল,সারা সাঁঝে, আবহাওয়ার এই স্বল্প তাপে জীবন যেন কাজই মাপে । ছুটি কোথায় হারিয়ে গেছে, ইঁদুর -দৌড় আর রেসের মাঝে! জীবন শুধু এগিয়ে চলে, আপন খেয়াল, আপন তালে, দুঃখ-সুখের সুরের বোলে, কোথায় গিয়ে ফেলবে নোঙর! ফুরিয়ে এল সময় যে মোর- দিনের শেষে শেষ প্রহরে, কষ্ট রইলো নিজের করে, সুখ পালালো একটু পরে- আনন্দ টাও অনেক দূরে- শান্তি কখন গেছে উড়ে- 'কষ্ট ' কিন্তু যায় নি ছেড়ে!! ভিন্ন পুরুষ ----------- বাবার কোলে হেসে খেলে, আদরেতে মানুষ হলে, ওই পুরুষ ই স্নেহ-ছায়া - সাথে অনেক দয়া মায়া- রক্ত ঘাম জল করে তোমায় সকল প্রয়োজন মেটায়- আরেক পুরুষ তাকিয়ে হাসে- কখন ওড়না, আঁচল খসে!! কখন একটু হাতের চাপে নরম শরীর টাকে পেষে- বাসে-ট্রামে ভিড়ের মাঝে- সকাল দুপুর বিকেল সাঁঝে আবার কখন আর এক দানব মনটা পুরো নৃশংস জান্তব- তোমার শরীরে অবাধ লীলা যেমন খুশি চালায় যৌন খেলা!! অন্য আর এক পুরুষ এসে বাঁচায় তোমায় অবশেষে- ভন্ড দানব ঐ শয়তান বেশি যায় গুঁড়িয়ে তার পুরুষালি পেশী রক্ষা করে আব্রু তোমার- রাখে মান, সম্মান ও লজ্জার - হাত ধরে সে ভবিষ্যতের লাগায় মলম গভীর ক্ষতের, সে ও তো এক পুরুষ ছিল- আশা, ভরসা, যে সব দিল নারী কে কেউ ছুঁড়ে ফেলে আবর্জনার অন্তরালে, কেউ বা তাকে তুলে এনে প্রতিষ্ঠা করে পূজোর আসনে!! পুরাণ বলে, দেবতা অথবা অসুর দুই ই হয়েছে পুরুষ চারযুগে সুদূর নারী রা কখনও হয়নি অসুর, হয়েছে দাসী, হয়েছে দেবী, হয়েছে বীর, হয়েছে মহীয়সী ।।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *