একটি প্রশ্ন
গল্প: একটি প্রশ্ন লেখক: অন্তরা ঘোষ কর্মকার একদেশে সামিক নামে একটি ছোট্ট ছেলে ছিল,তার খুব ইচ্ছে হল,সত্য কি,তা সে জানবে।পাটশালার পন্ডিতমশাই কে জিজ্ঞেস করলো সে কথা,পন্ডিতমশাই তো খুব রেগে গেলেন এ কথা শুনে, তিনি তখনি সামিক কে পাটশালা থেকে তারিয়ে দিলেন ও পরের দিন থেকে আসতে বারন করে দিলেন।সামিক কিন্তু হাল ছারল না,সে গেল গ্রামের […]
গল্প: একটি প্রশ্ন লেখক: অন্তরা ঘোষ কর্মকার একদেশে সামিক নামে একটি ছোট্ট ছেলে ছিল,তার খুব ইচ্ছে হল,সত্য কি,তা সে জানবে।পাটশালার পন্ডিতমশাই কে জিজ্ঞেস করলো সে কথা,পন্ডিতমশাই তো খুব রেগে গেলেন এ কথা শুনে, তিনি তখনি সামিক কে পাটশালা থেকে তারিয়ে দিলেন ও পরের দিন থেকে আসতে বারন করে দিলেন।সামিক কিন্তু হাল ছারল না,সে গেল গ্রামের শেষ প্রান্তে এক সাধু বাবার কাছে।তিনি সব শুনে বল্লেন, দেখ বাবা, আমি তোমাকে এই মুহূর্তে এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারবো না,এই প্রশ্নের উত্তর পেতে গেলে তোমাকে এখানে থাক্তে হবে।সামিক মহা আনন্দে রাজি হয়ে গেল,যাক এবার সে তার প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাবে।পরদিন ভোরবেলা সে সেখানে আবার এলো ও একই কথা জিজ্ঞেস করলো।সাধু বাবা বল্লেন এর উত্তর তোমাকে নিজেকেই খুজে নিতে হবে,পথে যেতে যেতে যে বা যারাই তোমার সাম্নে পরবে,তাকেই জিজ্ঞেস কর,সেই তোমাকে এ প্রশ্নের উত্তর বলে দিবে। সামিক তখন পথ চলতে শুরু করলো। হঠাৎ দেখলো একটি লোক যাচ্ছে রাস্তা দিয়ে,ও তখন তাকে জিজ্ঞেস করলো,আচ্ছা বলতে পারেন, সত্য কি?লোকটা বল্লো এই যে দেখছো,নদীটা কুলকুল করে বয়ে চলেছে এটাই হলো চরম সত্য। নদীর চলা কোনোদিন স্তব্ধ হবে না,তাই সত্য কোনোদিন থেমে থাকে না,শুধু এই নদী নই,আমাদের জীবন এও হলো শ্বাসত সত্য। এই বলে লোকটা চলে গেল।সামিক তবু এগিয়ে যেতে লাগলো,খানিকটাগিয়ে দেখলো,একটা বুড়ি মানুষ বসে বসে রান্না করছে। ওর খুব জল তেষ্টা পেয়েছিলো,তাই সে বুড়ির কাছে গিয়ে জল খেতে চাইলো,বুড়ি তাকে বাতাসা আর জল দিল,জল খেয়ে সে তাকেও একই প্রশ্ন করলো। বুড়ি বললো,দেখ বাচ্চা,সত্য কি তা আমি জানি না তবে আকাশে যেমন চন্দ্র সূর্য গ্রহ নক্ষত্র সত্যি, তেমনি এই গাছপালা,আকাশ বাতাস পাহাড় পর্বত সবই সত্যি। উত্তরটা ওর মনপুত হলো না,তাই সে আবার এগিয়ে যেতে লাগলো, আরও খানিকটা এগিয়ে যেতে এক বুক ফাটা কান্নার শব্দ কানে এলো তার। সেখানে গিয়ে দেখলো একটা লোক মরে গেছে, আর বাড়ির মেয়েরা তাকে ঘিরে বিলাপ করছে।আর চারদিকে ছোটো বড় নানা লোক কে জিজ্ঞেস করলো, কে মারা গেছেন বলতে পারবেন, সে বল্লো, হ্যা,আমাদের পাড়ার হরেন মন্ডল,হাপানিতে ধুকছিলো,মরে গিয়ে বোধ হই শান্তি পেলো।একটু চুপ করে থেকে ও আবার জিজ্ঞাসা করলো, আচ্ছা সত্য কি বলতে পারেন?লোকটা বললো মৃত্যুর চেয়ে বড় সত্য আর পৃথিবীতে নেই।এবার ও বুঝতে পারলো,সত্যকে ধরা যায় না,বাধা যায় না,শুধু অনুভব করা যায়।সত্য এর কোনো বিনাশ নেই,সত্য হলো অবিনশ্বর,চিরন্তন, শ্বাসত ধর্ম। ও তখনি ছুটলো সাধু বাবার কাছে, ওঁকে আসতে দেখে তিনি জিজ্ঞেস করলেন,কিরে জানতে পেরেছিস? সামিক বললো,হ্যা সাধু বাবা,সত্য হলো জীবন এর পরম শ্বাসত আদর্শ,যাকে কোনোদিন পরাভুত করা যায় না,নদীর মতোই সে গতিশীল,আকাশে চন্দ্রা সূর্যের মতোই সুন্দর ও পবিত্র।তাই সত্যই হলো জয়ের প্রতিক,ধর্মের প্রতিক।
Previousগবেষণার পেটেন্ট- কলমে অন্তরা ঘোষ কর্মকার
Nextউচিত শিক্ষা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *