কাজী নজরুল ইসলামের পাঁচটি সেরা কবিতা
কাজী নজরুল ইসলাম (মে ২৫, ১৮৯৯ – আগস্ট ২৭, ১৯৭৬), (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ - ভাদ্র ১২, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ), অগ্রণী বাঙালি কবি, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক - […]
কাজী নজরুল ইসলাম (মে ২৫, ১৮৯৯ – আগস্ট ২৭, ১৯৭৬), (জ্যৈষ্ঠ ১১, ১৩০৬ - ভাদ্র ১২, ১৩৮৩ বঙ্গাব্দ), অগ্রণী বাঙালি কবি, বিংশ শতাব্দীর অন্যতম জনপ্রিয় বাঙালি কবি, সঙ্গীতজ্ঞ, সংগীতস্রষ্টা, দার্শনিক, যিনি বাংলা কাব্যে অগ্রগামী ভূমিকার সঙ্গে সঙ্গে প্রগতিশীল প্রণোদনার জন্য সর্বাধিক পরিচিত। তিনি বাংলা ভাষার অন্যতম সাহিত্যিক, দেশপ্রেমী এবং বাংলাদেশের জাতীয় কবি। হিন্দু-মুসলিম সম্পর্ক - কাজী নজরুল ইসলাম---সংকলিত (কাজী নজরুল ইসলাম) হিন্দু-মুসলিম দুটি ভাই ভারতের দুই আঁখি তারা এক বাগানে দুটি তরু দেবদারু আর কদম চারা।। যেন গঙ্গা সিন্ধু নদী যায় গো বয়ে নিরবধি এক হিমালয় হতে আসে, এক সাগরে হয় গো হারা।। বুলবুল আর কোকিল পাখী এক কাননে যায় গো ডাকি, ভাগীরথী যমুনা বয় মায়ের চোখের যুগল ধারা।। ঝগড়া করে ভায়ে ভায়ে এক জননীর কোল লয়ে মধুর যে এ কলহ ভাই পিঠোপিঠী ভায়ের পারা।। পেটে ধরা ছেলের চেয়ে চোখে ধরারা মায়া বেশী, অতিথী ছিল অতীতে, আজ সে সখা প্রতিবেশী। ফুল পাতিয়ে গোলাপ বেলী একই মায়ের বুকে খেলি, পাগলা তা'রা আল্লা ভগবানে ভাবে ভিন্ন যারা।। সংকল্প - কাজী নজরুল ইসলাম---সংকলিত (কাজী নজরুল ইসলাম) থাকব না কো বদ্ধ ঘরে, দেখব এবার জগৎটাকে,- কেমন করে ঘুরছে মানুষ যুগান্তরের ঘুর্ণিপাকে। দেশ হতে দেশ দেশান্তরে ছুটছে তারা কেমন করে, কিসের নেশায় কেমন করে মরছে যে বীর লাখে লাখে, কিসের আশায় করছে তারা বরণ মরণ-যন্ত্রণারে।। কেমন করে বীর ডুবুরী সিন্ধু সেঁচে মুক্তা আনে, কেমন করে দুঃসাহসী চলছে উড়ে স্বরগ পানে। জাপটে ধরে ঢেউয়ের ঝুঁটি যুদ্ধ-জাহাজ চলছে ছুটি, কেমন করে আঞ্ছে মানিক বোঝাই করে সিন্ধু-যানে, কেমন জোরে টানলেসাগর উথলে ওঠে জোয়ার বানে। কেমন করে মথলে পাথার লক্ষী ওঠেন পাতাল ফুঁড়ে, কিসের অভিযানে মানুষ চলছে হিমালয় চুড়ে। তুহিন মেরু পার হয়ে যায় সন্ধানীরা কিসের আশায়; হাউই চড়ে চায় যেতে কে চন্দ্রলোকের অচিন পুরেঃ শুনবো আমি, ইঙ্গিত কোন 'মঙ্গল' হতে আসছে উড়ে।। কোন বেদনার টিকিট কেটে চন্ডু-খোর এ চীনের জাতি এমন করে উদয়-বেলায় মরণ-খেলায় ওঠল মাতি। আয়ার্ল্যান্ড আজ কেমন করে স্বাধীন হতে চলছে ওরেঃ তুরষ্ক ভাই কেমন করে কাঁটল শিকল রাতারাতি! কেমন করে মাঝ গগনে নিবল গ্রীসের সূর্য-বাতি।। রইব না কো বদ্ধ খাঁচায়, দেখব এ-সব ভুবন ঘুরে- আকাশ বাতাস চন্দ্র-তারায় সাগর-জলে পাহাড়-চুঁড়ে। আমার সীমার বাঁধন টুটে দশ দিকেতে পড়ব লুটেঃ পাতাল ফেড়ে নামব নীচে, ওঠব আবার আকাশ ফুঁড়েঃ বিশ্ব-জগৎ দেখব আমি আপন হাতের মুঠোয় পুরে।। মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দ্যম - কাজী নজরুল ইসলাম---সংকলিত (কাজী নজরুল ইসলাম) মোরা ঝঞ্ঝার মত উদ্দ্যম মোরা ঝর্ণার মত চঞ্চল, মোরা বিধাতার মত নির্ভয় মোরা প্রকৃতির মত স্বচ্ছল।। মোরা আকাশের মত বাঁধাহীন মোরা মরু সঞ্চার বেদুঈন, বন্ধনহীন জন্ম স্বাধীন চিত্তমুক্ত শতদল।। মোরা সিন্ধু জোঁয়ার কলকল মোরা পাগলা জোঁয়ার ঝরঝর। কল-কল-কল, ছল-ছল-ছল মোরা দিল খোলা খোলা প্রান্তর, মোরা শক্তি অটল মহীধর। হাসি গান শ্যাম উচ্ছল বৃষ্টির জল বনফল খাই- শয্যা শ্যামল বনতল।। মুনাজাত - কাজী নজরুল ইসলাম---সংকলিত (কাজী নজরুল ইসলাম) আমারে সকল ক্ষুদ্রতা হতে বাঁচাও প্রভু উদার। হে প্রভু! শেখাও - নীচতার চেয়ে নীচ পাপ নাহি আর। যদি শতেক জন্ম পাপে হই পাপী, যুগ-যুগান্ত নরকেও যাপি, জানি জানি প্রভু, তারও আছে ক্ষমা- ক্ষমা নাহি নীচতার।। ক্ষুদ্র করো না হে প্রভু আমার হৃদয়ের পরিসর, যেন সম ঠাঁই পায় শত্রু-মিত্র-পর। নিন্দা না করি ঈর্ষায় কারো অন্যের সুখে সুখ পাই আরো, কাঁদি তারি তরে অশেষ দুঃখী ক্ষুদ্র আত্মা তার।। কান্ডারী হুশিয়ার! - কাজী নজরুল ইসলাম---সংকলিত (কাজী নজরুল ইসলাম) দুর্গম গিরি, কান্তার-মরু, দুস্তর পারাবার লঙ্ঘিতে হবে রাত্রি-নিশীথে, যাত্রীরা হুশিয়ার! দুলিতেছে তরি, ফুলিতেছে জল, ভুলিতেছে মাঝি পথ, ছিঁড়িয়াছে পাল, কে ধরিবে হাল, আছে কার হিম্মৎ? কে আছ জোয়ান হও আগুয়ান হাঁকিছে ভবিষ্যৎ। এ তুফান ভারী, দিতে হবে পাড়ি, নিতে হবে তরী পার। তিমির রাত্রি, মাতৃমন্ত্রী সান্ত্রীরা সাবধান! যুগ-যুগান্ত সঞ্চিত ব্যথা ঘোষিয়াছে অভিযান। ফেনাইয়া উঠে বঞ্চিত বুকে পুঞ্জিত অভিমান, ইহাদের পথে নিতে হবে সাথে, দিতে হবে অধিকার। অসহায় জাতি মরিছে ডুবিয়া, জানে না সন্তরন কান্ডারী! আজ দেখিব তোমার মাতৃমুক্তি পন। হিন্দু না ওরা মুসলিম? ওই জিজ্ঞাসে কোন জন? কান্ডারী! বল, ডুবিছে মানুষ, সন্তান মোর মার গিরি সংকট, ভীরু যাত্রীরা গুরু গরজায় বাজ, পশ্চাৎ-পথ-যাত্রীর মনে সন্দেহ জাগে আজ! কান্ডারী! তুমি ভুলিবে কি পথ? ত্যজিবে কি পথ-মাঝ? করে হানাহানি, তবু চলো টানি, নিয়াছ যে মহাভার! কান্ডারী! তব সম্মুখে ঐ পলাশীর প্রান্তর, বাঙালীর খুনে লাল হল যেথা ক্লাইভের খঞ্জর! ঐ গঙ্গায় ডুবিয়াছে হায়, ভারতের দিবাকর! উদিবে সে রবি আমাদেরি খুনে রাঙিয়া পূনর্বার। ফাঁসির মঞ্চে গেয়ে গেল যারা জীবনের জয়গান, আসি অলক্ষ্যে দাঁড়ায়েছে তারা, দিবে কোন্ বলিদান আজি পরীক্ষা, জাতির অথবা জাতের করিবে ত্রাণ? দুলিতেছে তরী, ফুলিতেছে জল, কান্ডারী হুশিয়ার!
Previousতমা সরকারের তিনটি কবিতা
Nextরসায়ন কাকে বলে