গল্প নেকলেস চোর -কলমে তমা কর্মকার
গল্প নেকলেস চোর, কলমে তমা কর্মকার রাখাল কেতকীর  দুটি সন্তান ছেলে রমেন মেয়ে মিষ্টি, রাখাল সচ্ছল পরিবার,| একদিন স্ত্রী কেতকী বলেন শোনোনা অনেক দিন কৃষ্ণ মন্দিরে যাইনা, চলো না কাল রমেন ও মিষ্টি কে নিয়ে একটু  মন্দিরে যাই , রাখাল  বলেন বেশ চলো, পরের দিন রাখাল সবাইকে নিয়ে কৃষ্ণ মন্দিরে যান, ওখানে একটি অনাথ বাচ্চা […]
গল্প নেকলেস চোর, কলমে তমা কর্মকার রাখাল কেতকীর  দুটি সন্তান ছেলে রমেন মেয়ে মিষ্টি, রাখাল সচ্ছল পরিবার,| একদিন স্ত্রী কেতকী বলেন শোনোনা অনেক দিন কৃষ্ণ মন্দিরে যাইনা, চলো না কাল রমেন ও মিষ্টি কে নিয়ে একটু  মন্দিরে যাই , রাখাল  বলেন বেশ চলো, পরের দিন রাখাল সবাইকে নিয়ে কৃষ্ণ মন্দিরে যান, ওখানে একটি অনাথ বাচ্চা মেয়ে কে কুড়িয়ে পান রাখাল,  স্ত্রীর অমতে মেয়েটিকে সাথে করে নিয়ে আসেন, নিজের বাড়ী এবং রমেন ও মিষ্টির সাথে ওকেও আপন সন্তান জ্ঞানে মানুষ করতে থাকেন,  মেয়েটির নাম রাখেন টিয়া |রমেন ওকে ভালো মনে নিলেও মিষ্টিও কেতকী ওকে দুচোক্ষে দেখতে পারতোনা, কিন্তু সবার সামনে মিষ্টি টিয়ার সাথে ভীষণ ভালো ব্যাবহার করতো, কিন্তু সবার আড়ালে ও এমন কিছু কাজ করতো যাতে সমস্ত দোষ টিয়ার ঘাড়ে পরে | দেখতে দেখতে সবার বিয়ের বয়স হয়ে উঠলো, একটি ছেলে দেখে মিষ্টির বিয়ে ঠিক করা হলো| কেতকী মিষ্টির বিয়ের জন্য বানিয়ে রাখা গয়না পালিশ করতে দেবেন বলে টিয়াকে চাবি একটা লিস্ট দিলেন, লিস্ট দেখে সব গয়না বের করে দেবার জন্য, টিয়া লিস্ট দেখে সব গয়না পলিসে দেবার জন্য বের করে, কর্মচারীর হাতে গয়না দেবার সময়ে একটা নেকলেসে দেখে ওর চোখ আটকে গেল ও কর্মচারীর হাতে দেবার সময়ে কী মনে করে নেকলেস টি একবার নিজের গলায় পড়লো তারপর কর্মচারীর হাতে সব গয়না গুলি দিয়েদিলো, দরজার বাইরে দাঁড়িয়ে রমেন পুরো ব্যাপারটা দেখলো, যাইহোক বিয়ের আগের দিন রাত্রে সব গয়না পালিশ হয়ে এলো, কেতকী লিস্ট সহ গয়নার শীলকরা প্যাকেটটা কর্মচারীর হাত থেকে নিয়ে  সিন্দুকে তুলে রাখলেন , যথা রীতি বিয়ের দিন সকালে আবারো কেতকী টিয়ার হাতে চাবি দিয়ে বললেন সব গয়না বের করে মিষ্টিকে সাজিয়ে দিতে, কিন্তু বিয়ের দিন সব গয়না পাওয়া গেলেও লিস্ট অনুযায়ী মিষ্টির দাদুভাইয়ের দেওয়া সেই নেকলেস টা সারাবাড়ী তন্ন তন্ন করেও খুঁজে পাওয়া গেলনা,  সবাই আঙ্গুল তুললো টিয়ার দিকে, বিশেষ করে রমেন,  রমেন সেদিন যা দেখেছে তাই বাড়ীর সবাইকে বলল | প্রথমে টিয়াকে সবাই  অনেক জিজ্ঞাসা বাদ করলো তাতে কাজ না হওয়ায় রমেন বাড়িতে পুলিশ ডাকলো টিয়ার উপরে চললো পুলিশি জেরা,  রাখাল মানসিক দিক থেকে ভীষণ ভেঙে পড়লেন, কেননা তিনি টিয়াকেনিজের মেয়ের মতোই ভীষণ  ভালোবাসতেন, এদিকে রমেন যা যুক্তি দিলো তাও ফেলে দেবার নয়,সন্ধ্যে বেলায় গোধূলি লগ্নে মিষ্টির বিয়ে হয়েগেল,  বিয়ের পরেরদিন সকালে বাড়ী ভর্তি সব অথিতি, এমন সময়ে সোনার দোকানের মালিক বীরেন বাবু হন্তদন্ত হয়ে ছুটে এলেন, আর এসেই সোজা রাখালের হাত ধরে ক্ষমা চাইতে লাগলেন বাড়ীর অথিতি সহ সবাইতো অবাক, সবাই আসল ঘটনা জানার জন্য কৌতূহল প্রকাশ করতে লাগলো তখন বীরেন বাবু বললেন যে কর্মচারী লিস্ট মিলিয়ে সব গয়না প্যাকেটে ভরে রেখেছিলো, কিন্তু তিনি আবার সব ঠিকমতো আছে কিনা দেখতে গিয়ে নেকলেস টা যে কখন পরে গিয়েছিলো সোফার ফাঁকে,তিনি তা টের পাননি, ওনি লিস্টে সব ঠিক আছে দেখে প্যাকেট শীল করে দিয়েছেন,  আজ সকালে কর্মচারী ঘর ও সোফা ঝাড়ার সময়ে এটা কুড়িয়ে পায় বলে মিষ্টির দাদুর দেওয়া নেকলেস টা রাখালের হাতে তুলে দেন | নেকলেস চুরির আসল ঘটনা শুনে রাখাল সহ রাখালের পরিবারের সবার মাথা নিচু হয়ে যায় |রাখাল রমেনকে সাথে নিয়ে টিয়াকে থানা থেকে ছাড়িয়ে আনেন, রাখাল সহ বাড়ীর সবাই টিয়ার কাছে জোর হাতে ক্ষমা চায় |টিয়াও সবাইকে ক্ষমা করে দেয় | কেতকী দেবী টিয়াকে মেয়ে বলে বুকে জড়িয়ে ধরেন টিয়াও কেতকী কে মা জড়িয়ে ধরলো |